বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেয়ার উদ্যোক্তাদের বিচারের দাবি
– নারিকেল দ্বীপের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
– বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ মার্কিন ডলার থেকে সরিয়ে আনতে হবে
৩ দফা দাবি নিয়ে রাজধানী ঢাকায় সমাবেশের আয়োজন করেছে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’ নামের একটি সংগঠন। গতকাল ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে ফালইয়াফরাহু চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তারা এসব দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো- চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা, নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপে পর্যটনের ওপর সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে অধিবাসীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ মার্কিন ডলার থেকে সরে আসা।
সমাবেশে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আহ্বায়ক আরিফুল খবির বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি সা¤্রাজ্যবাদী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের কাছে বিক্রির চেষ্টার সঙ্গে জড়িত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ইউনুস, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, উপদেষ্টা সাখওয়াত হোসেন এবং বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকরা জীবন বাজি রেখে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করে যে রায় দিয়েছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। এ ধরনের রায়ের মাধ্যমে বিশ^াসঘাতকদের দায়মুক্তি দেওয়া হলে তারা পুনরায় একই ধরনের কর্মকা-ে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা দেশ ও জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বক্তাগণ অবিলম্বে বিডা প্রধানের পদ থেকে আশিক চৌধুরীর অপসারণ দাবি করেন।
সমাবেশে সংগঠনের সদস্য সচিব আহমাদুর রহমান বলেন, সমুদ্র দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরায় পর্যটনের ওপর আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ইউনুস নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপকে দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপের মতো একটি মার্কিন ঘাঁটিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুরুতেই দ্বীপের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে স্থানীয় জনগণের রুটি-রুজির পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে তারা বাধ্য হয়ে দ্বীপ ত্যাগ করে এবং অঞ্চলটি জনশূন্য হয়ে পড়ে, ফলে মার্কিন ঘাটি তৈরী সহজ হয়।
তিনি আরও বলেন, ইউনুস সরকার জেলেদের নিরাপত্তা না দেয়ায় শত শত জেলে আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত হয়েছেন। ফলে পর্যটনের পাশাপাশি তাদের প্রধান জীবিকা মাছ ধরা কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং দ্বীপে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অনেক মানুষ খাদ্যাভাবের কারণে প্রাণ হারান। এ পরিস্থিতির জন্য ইউনুসসহ সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানাকে দায়ী করে তাদের বিচারের দাবি জানান বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে মার্কিন ডলারে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ডলার দিয়ে যদি তেল-গ্যাস কেনা সম্ভব না হয়, তবে সেই ডলার দিয়ে বাংলাদেশের রিজার্ভ পূর্ণ রাখার যৌক্তিকতা কী? সম্ভাব্য ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পেট্রোডলারের পতনের আশঙ্কায় বিশে^র বিভিন্ন দেশ স্বর্ণ মজুদ বাড়াচ্ছে, যার ফলে স্বর্ণের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এর বিপরীতে ইউনুস সরকার মার্কিন স্বার্থে প্রভাবিত হয়ে স্বর্ণের পরিবর্তে খোলা বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ আরও ডলারনির্ভর করে তুলছে।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, ডলারের মূল্য হ্রাস পেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং এর পরিণতিতে দেশের অর্থনীতিও মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য সংকট শুরুর আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ডলার থেকে সরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
