ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতার দাবি

রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে এক মানববন্ধনে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতার আহবায়ক আরিফুল খবির পবিত্র দ্বীন ইসলাম এবং দেশের স্বার্থে নতুন সরকারের করণীয় সম্পর্কে কিছু প্রস্তাবনা ও বিভিন্ন দাবি পেশ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল তিনটায় এসব প্রস্তাবনা দাবি আকারে তুলে ধরেন। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতার নেতা শাহ জামাল, আহসান উদ্দিন, হাবীবুল্লাহ, আকতার সোবহানসহ আরো অনেকে।

আমাদের মাতৃভূমি একটি মুসলমান অধ্যুষিত দেশ। এই দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ জনগণ মুসলিম। জনগণের ওপর চেপে বসা কথিত অন্তর্বর্তী সরকারের পতন করে জনগণের সমর্থনে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই নতুন সরকারের প্রতি এই দেশের মানুষের আশা আকাঙ্খা নিয়ে আমাদের এই সংবাদ সম্মেলন।

সর্বক্ষেত্রে অবশ্যই পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর অনুসারে দেশ পরিচালনা করতে হবে। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোন নিয়ম-কানুন বা আইন জারী করা যাবে না। এই জন্য সরকারকে অবশ্যই হক্কানী রব্বানী আলিম উলামা যারা দুনিয়ালোভী বা ক্ষমতালোভী নন, উনাদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

দ্বীনি স্থানসমূহের সুরক্ষায় একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে, যা সকল দ্বীনি স্থানের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১ (দ্বীনি স্বাধীনতা) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং দেশের দ্বীনি সম্প্রীতি ও সুরক্ষা বজায় রাখবে।

মুসলমানদের দ্বীনি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মুখচ্ছবিহীন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও বিদেশ গমনের অনুমতিপত্র (পাসপোর্ট)-এর ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো নাগরিককে তার দ্বীনি বিশ্বাসের পরিপন্থী কাজ করতে বাধ্য করা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের লঙ্খন। এ বিষয়ে দ্বীন ইসলামের অকাট্য ফয়সালা হলো- প্রাণির ছবি তোলা হারাম ও লানতযোগ্য কাজ। তাই নাগরিকদের জন্য বিশেষ করে পর্দানশীন নারী এবং পরহেজগার পুরুষদের জন্য ছবিবিহীন পরিচয়পত্র ও বিদেশগমনের অনুমতিপত্র (পাসপোর্ট) নিশ্চিত করতে হবে।

দেশকে মুহব্বাত করা ঈমান। তাই দেশের মানুষকে নিজের পরিবারের সদস্য মনে করতে হবে। নারিকেল দ্বীপে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। সারা দেশের মানুষ যেকোন সময় দেশের যে কোন স্থানে যেতে পারবে বা ভ্রমণ করতে পারবে। সাগরে মাছ ধরার উপরে তোন নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না। মানুষের জীবিকার পথকে বাধাগ্রস্থ করা যাবে না।

দেশের অর্থনৈতিক হৃদপিন্ড চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং টার্মিনাল, লালদিয়া বন্দর, কেরানীগঞ্জের পানগাঁওসহ দেশের কোন সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর, বিমান বন্দর বা স্থলবন্দর কোন কিছুই বিদেশীদেরকে ইজারা দেয়া যাবে না। দেশের খনিও বিদেশীদেরকে ইজারা দেয়া যাবে না। দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের তথ্যগত নিরাপত্তা ও তথ্য পাচার, জুয়া, অপসংস্কৃতি-অশ্লীলতার সকল নেটওয়ার্ক নিষিদ্ধ করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের দ্বীন এবং আমাদের দেশ হেফাজস করুন।